প্রামাণ্যচিত্র 'আমাদের হাছন রাজা'

প্রামাণ্যচিত্র 'আমাদের হাছন রাজা'


গত ২১ ডিসেম্বর ছিল মরমী কবি হাছন রাজার ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী। আর এই দিনটিতেই ঢাকার জাতীয় যাদুঘরে অনুষ্ঠিত 'জাতীয় হাছন উৎসব' এর নানান কর্মকান্ড ধারণের মধ্যদিয়ে শুরু হয় 'আমাদের হাছন রাজা' প্রামাণ্যচিত্রের কাজ। এই প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য হচ্ছে একাধিক। প্রথমত হাছন রাজার জীবন কাব্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত হাছন রাজা সংশিষ্ট বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও বস্তু ধারণ করা এবং তৃতীয়ত তাঁর জীবন ও দর্শন থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অণুকরণীয় দৃষ্টান্তগুলো ফুটিয়ে তোলা। এই তিনটি বিষয়কে সঠিকভাবে তুলে ধরার মাধ্যমেই একজন পূর্ণাঙ্গ হাছন রাজাকে তুলে ধরা হবে 'আমাদের হাছন রাজা' প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে।
প্রামাণ্যচিত্রটির গবেষণা, গ্রন্থনা ও পরিকল্পনা করছেন অভি মঈনুদ্দীন এবং এর নির্দেশনার দায়িত্বে রয়েছেন তারিকুল ইসলাম। নন্দন অডিও ভিশন নিবেদিত প্রামাণ্যচিত্রটি প্রযোজনা করছে 'কারিগর বাড়ি'। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন হাছন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান মোহাম্মদ তাছাওয়ার রাজা। হাছন রাজার জন্ম ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের লক্ষণশ্রীতে। তার পৈতৃক বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা। -মিডিয়া নিউজ ডেস্ক, ২৩ ডিসেম্বর ২০০৯।
সূত্র: http://www.amadermedia.com

অস্বাস্থ্যকর নগরী কক্সবাজার

অস্বাস্থ্যকর নগরী কক্সবাজার 



ছবি:  http://forum.projanmo.com/topic11034.html  এখান থেকে।


মঈনুল হাসান পলাশ, এবিনিউজ২৪, কক্সবাজার || দিনের বেলায় মশার উৎপাত ঠেকাতে কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়। আর সন্ধ্যার পর অবস্থা কেমন হয় তা নিশ্চয়ই বলতে হবে না। কক্সবাজার শহরের পেশকার পাড়ার গৃহবধূ সানজিদা আকতার বলছিলেন। শহরের এন্ডারসন রোডের ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন জানালেন, শহরের অলিগলি তো বটেই প্রধান সড়কের দুপাশে ময়লা-আবর্জনার স্তুপ দেখে কক্সবাজারকে স্বাস্থ্যকর নগরী বলতে আমাদের লজ্জা হয়। কক্সবাজার শহরে বসতি বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। তার সাথে তাল মিলিয়ে সুষ্ঠু পয়-নিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরী করতে পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন সচেতন পৌরবাসী। তদুপরি কক্সবাজার পৌর এলাকার ড্রেনগুলো দখল প্রতিযোগিতায় নেমেছে প্রভাবশালীরা। জানা যায়, কক্সবাজার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্পটে অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালী মালিকরা ইচ্ছেমত পার্শ্ববর্তী পানি চলাচলের ড্রেন দখল করে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের স্পেস বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। ড্রেন দখলের বিষয়গুলো পৌর কর্তৃপক্ষ দেখেও নির্বিকার থাকে। শহরের বাজারঘাটস্থ উত্তরা ও চাঁদনী জয়েলার্সের পৌর ড্রেইন, আইবিপি সড়কের দুপাশের ড্রেনের উপর ফার্মেসী ও দোকান, বার্মিজ মার্কেটস্থ বৌদ্ধ মন্দির সড়কের পূর্ব পাশের বিশাল পৌর ড্রেনের উপর নির্মিত মার্কেট, পাহাড়তলী সড়ক, আনন্দ মাল্টিমিড়িয়ার পার্শ্ববর্তী প্রস্তাবিত পৌর ড্রেনসহ একের পর এক দখল হয়ে গেছে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সবকটি ড্রেন । এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, কয়েক মাস আগে পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি এলাকার পানি চলাচলের জন্য আনন্দ মাল্টিমিডিয়ার পার্শ্ববর্তী প্রস্তাবিত পৌর ড্রেইনটি প্রকাশ্যে দিবালোকে দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যায় পৌর কর্তৃপক্ষ। অথচ দখলবাজরা ড্রেইন দখলের সময় পৌরসভাকে দিয়ে উক্ত ড্রেনের নির্ধাতির জায়গার মাপ-ঝোক করতেও দেখেছেন অনেকেই। এমনকি সে সময় পৌরসভার দায়িত্বরত বর্তমান ও সাবেক অনেক কর্তাব্যক্তিকে দেখা গিয়েছিলেন বলেও অভিযোগে জানা গেছে। শহরের ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় এগুলো মশা উৎপাদনের খামারে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করেছেন এক ক্ষুব্ধ নাগরিক। সৈকতের লাবণী পয়েণ্টে নর্দমা উপচে রাস্তায় এসে জমা হচ্ছে সুয়ারেজের নোংরা পানি। সেই নোংরা পানি মাড়িয়ে সৈকতে বেড়াতে যাচ্ছেন হাজারো মানুষ। অন্যদিকে শহরের প্রতিদিনকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোন সমন্বয় বা পরিকল্পনা নেই। শহর সংলগ্ন মরা বাঁকখালীর পাড়ে জমা করা হচ্ছে এ সব বর্জ্য। সেখানে খোলা আকাশের নীচে মাসের পর মাস পরে থাকে এসব বর্জ্য। তৈরী হয় এক উৎকট পরিবেশ। এ বিষয়ে জানতে বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়রের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ২৭.১১.০৯।

রক্তঝরা বিজয়ের মাস

রক্তঝরা বিজয়ের মাস


                                           ছবি:   http://muktadhara.net
এবিনিউজ২৪ || বাঙ্গালী জাতির রাষ্ট্রের পরিচয় নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াবার চূড়ান্ত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের নয়মাস ধরে চলা মুক্তিসংগ্রামের উত্তুঙ্গ মুহূর্ত এসে দাঁড়িয়েছিল এই মাসে। তাই ডিসেম্বর ‘বিজয়ের মাস’। অন্যদিকে, এই ডিসেম্বর দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মাস, যুদ্ধে নিহত ৩০ লাখ শহীদের স্বজনদের কাছে এই ডিসেম্বর বেদনার মাস। এই ডিসেম্বর অঙ্গীকারের মাস, প্রত্যয়বদ্ধ হবার মাস। বাবা হারানো সন্তানের কাছে, স্বামী হারানো স্ত্রীর কাছে, মেয়ে হারানো পরিবারের কাছে জাতি, রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহিতার মাস। বাঙ্গালী জাতির জীবনে ডিসেম্বর নতুন করে শপথ নেবার মাস। মুক্তিযুদ্ধের ৩৭ বছর পরেও আমরা জাতিগত জীবনে যা অর্জন করতে পারিনি, জাতি হিসাবে আমাদের যা স্খলন - তার উত্তরণ ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে সমাজে, রাষ্ট্রে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য শপথ নেয়ার মাস- ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের পর গত ৩৭ বছরে জনগণের দীর্ঘ আন্দোলনের পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি আজো বাস্তবায়িত হয়নি। সরকারের কাছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সেই দাবি বাস্তবায়নের জন্য অঙ্গীকারের মাস ডিসেম্বর। এবারের বিজয়ের মাস ডিসেম্বর এসেছে এক নতুন প্রত্যাশা নিয়ে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পথে যে প্রত্যাবর্তন সেই গতিধারায় বর্তমান সরকার দেশকে সমৃদ্ধির পথে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে - সেই প্রত্যাশায় বুক বেঁধে আছে দেশের ১৫ কোটি বাঙ্গালী। আজ পহেলা ডিসেম্বর। এই সময়ে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধ সর্বাত্মক রূপ পেয়েছে। পাকিস্তানী বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে। সারাদেশে চলতে থাকে ব্যাপক যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের এই দিনে নিউইয়র্ক টাইমসের পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গেরিলা তৎপরতা বৃদ্ধি পাবার ফলে পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক জান্তাদের নির্দেশে সামরিক বাহিনীর লোকেরা পুনরায় গ্রামবাসীদের হত্যা এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেবার বর্বর অভিযান শুরু করেছে। গেরিলা সন্দেহে জিঞ্জিরার কতজন যুবককে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে হত্যা করেছে তার ইয়ত্তা নেই। বুড়িগঙ্গার অপর পাড়ের এই গ্রামটিতে অন্ততঃ ৮৭ জনকে সামরিক বাহিনীর লোকেরা হত্যা করেছে। এদের অধিকাংশই যুবক। নারী ও শিশুরাও ওদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পার্লামেন্টের উচ্চ পরিষদে বক্তৃতাকালে উপমহাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানী সৈন্য অপসারণের নির্দেশ দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানী সৈন্য অপসারণই সমস্যার শ্রেষ্ঠ সমাধান। এই বক্তৃতায় তিনি ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের জনসাধারণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। এদিন রাওয়ালপিন্ডিতে একজন সরকারি মুখপাত্র জানান, অধুনালুপ্ত আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার এখনও শেষ হয়নি। তিনি বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের চারটি রণাঙ্গনে যে আক্রমণাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ’৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা অপারেশন চালিয়ে ঢাকায় দুইজন মুসলিম লীগ কর্মীকে হত্যা করে। বাকী দুইজনকে বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে মুক্তিযোদ্ধারা শেষরাতের দিকে সিলেটের শমশেরনগরে অতর্কিতে আক্রমণ চালিয়ে পাকবাহিনীকে নাজেহাল করে তোলে। মুক্তিবাহিনীর তীব্র আক্রমণে পাকবাহিনী এই এলাকা থেকে পালাতে শুরু করে। মুক্তিবাহিনী টেংরাটিলা ও দুয়ারাবাজার মুক্ত ঘোষণা করে। মুক্তিবাহিনীর অপারেশন অব্যাহত থাকায় পাকবাহিনী এই জেলার গারা, আলিরগাঁও, পিরিজপুর থেকে তাদের বাহিনী গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এদিকে পিপলস পার্টির ঢাকা অফিস বোমা বিস্ফোরণের ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো দুমাস আগে এ অফিস উদ্বোধন করেন। রাঙ্গামাটিতে ব্যাপটিস্ট মিশন হানাদার বাহিনী কর্তৃক আক্রান্ত হয়ে চার্লস আর. হাউজার নামে একজন ধর্মযাজক এবং বহু বাঙ্গালী সন্ন্যাসী নিহত হন। 01.12.09।